নিউজ প্রবাসী ডেক্স ॥
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দুই অধিবেশনে বিরোধী দলের সদস্যরা বিভিন্ন বিল, বাজেট ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। নিয়মিত সমালোচনা, সংশোধনী প্রস্তাব, ওয়াকআউট এবং পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্যের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলেও আইন প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের প্রভাব কতটা কার্যকর হয়েছে—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিরোধী দলের অভিযোগ, কার্যপ্রণালি বিধির বিভিন্ন শর্ত শিথিল করে দ্রুত বিল উত্থাপন ও পাস করায় আইন যাচাই, সংশোধনী প্রস্তুত এবং জনমত প্রতিফলনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। এতে সংসদের কার্যকর ভূমিকা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন।
অন্যদিকে সরকার বলছে, বিরোধী দল সংসদে পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে এবং মতামত প্রকাশের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে জরুরি আইন পাসের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা সম্ভব নয়।
সংসদ বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দুই অধিবেশনে বিরোধীরা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল দ্রুত পাস হওয়ায় সংসদীয় রীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল, ২০২৬’ একই দিনে উত্থাপন ও পাস হওয়াকে প্রচলিত সংসদীয় চর্চার ব্যতিক্রম হিসেবে দেখছেন তারা।
এদিকে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটিতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তেও অনড় রয়েছে বিরোধী দল। তাদের দাবি, গণভোটের মাধ্যমে গৃহীত সংস্কার প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের কার্যকারিতা নিয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়নে পৌঁছাতে আরও কয়েকটি অধিবেশনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।