নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
রাজধানীর দক্ষিণ মানিকদীর ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওসহ প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার মধ্যরাতের ওই হামলার পর রোববার দুপুরে ঘটনাস্থলে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের চিহ্ন ছড়িয়ে রয়েছে। কোথাও কাচের টুকরা, কোথাও গুলির খোসা পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্টুডিওর আসবাবপত্র ও কনটেন্ট তৈরির সরঞ্জামও ভাঙচুর করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার তার কেটে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, চার থেকে পাঁচটি পিকআপে করে হামলাকারীরা সেখানে প্রবেশ করে। তারা বিভিন্ন ভবনে থাকা লোকজনকে মারধর করে টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। যেসব জিনিস নিয়ে যেতে পারেনি, সেগুলো ভাঙচুর করা হয়।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর কর্মী ইলার দাবি, হামলার সময় স্টুডিওতে থাকা দুই ব্যক্তি ওয়াশরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে হামলাকারীরা সেখানে প্রবেশ করে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যায়। স্টুডিও থেকে একটি ক্যামেরা, তিনটি লেন্স, চারটি লাইট, চারটি সফটবক্স ও সিসিটিভি সরঞ্জাম লুট হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রকল্পের এক নির্মাণশ্রমিকের দাবি, হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে পিস্তল, রামদা, লাঠি ও চাপাতি ছিল। শ্রমিকদের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার পর তাদের মারধর এবং টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
নিউ গিনি প্রপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া অভিযোগ করেছেন, চাঁদা দাবি ও জমি দখলের উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ একটি চক্র এ হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, গত এক মাসে বিভিন্ন সময়ে তার কাছে এক কোটি, ৫০ লাখ ও দুই কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।
তবে হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয়। ডিএমপির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে বিবাদমান পক্ষগুলোর বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সালমান মুক্তাদির ওই বিরোধের মধ্যে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেছেন নিউ গিনি প্রপার্টিজের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া। মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম রয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্ত শেষ হলে হামলার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।