নিউজ প্রবাসী ডেস্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম পাঁচ মাসে ২ হাজার ৪৫৪টি ধর্ষণের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। একই সময়ে রাজ্যে খুন, খুনের চেষ্টা ও গুরুতর হামলার বিপুল সংখ্যক ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়েছে দলটি।
বুধবার বিধানসভার বাইরে সংবাদ সম্মেলনে তথ্যগুলো তুলে ধরেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং আইনজীবী অর্ক নাগ। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, তথ্য জানার অধিকার আইনের মাধ্যমে পাওয়া স্টেট ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (এসসিআরবি) পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
তৃণমূলের দাবি, মে মাস থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে পশ্চিমবঙ্গে ২ হাজার ৪৫৪টি ধর্ষণের মামলা, ৬০০টি খুন, ১৩ হাজার ১১৪টি খুনের চেষ্টা এবং ৩২ হাজার ৩৪১টি গুরুতর আঘাতের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
দলটির হিসাবে, এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬টি ধর্ষণের মামলা, চারটি খুন, ৮৭টি খুনের চেষ্টা এবং ২১৬টি গুরুতর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব পরিসংখ্যান রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তৃণমূল নেতারা।
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব তথ্য তুলে ধরে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, অপরাধের এমন পরিসংখ্যান প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।
কুণাল ঘোষও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি থানায় অভিযোগ জানাতে সাধারণ মানুষ সমস্যার মুখে পড়ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আইনজীবী অর্ক নাগের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ অভিযোগকে যথাযথ গুরুত্ব দেয় না। কোথাও কোথাও অভিযোগ গ্রহণ না করার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, সব অভিযোগ যথাযথভাবে নথিভুক্ত হলে অপরাধের সরকারি পরিসংখ্যান আরও বেশি হতে পারত।
এ পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার ও রাজ্যপালের কাছ থেকে প্রকাশ্য বক্তব্য চেয়েছে তৃণমূল। অপরাধের এমন পরিসংখ্যানের কারণ ব্যাখ্যা করতে এবং বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি জানিয়েছে দলটি।
তবে তৃণমূলের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বিজেপি। দলের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হয়েছে। আগের সরকারের সময়ে যেসব অভিযোগ যথাযথভাবে নথিভুক্ত হতো না, সেগুলো এখন রেকর্ডে আসছে বলেই পরিসংখ্যানে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিজেপির বক্তব্য, অভিযোগ নথিভুক্ত করে তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া সুশাসনেরই অংশ। তবে অপরাধের পরিসংখ্যান নিয়ে দুই দলের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।