নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ও ইনস্টাগ্রামে সাক্ষাতের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে বিষয়টি জানান জয়শঙ্কর। তিনি রিয়াজ হামিদুল্লাহর দায়িত্বকালের অবদানের প্রশংসা করে তার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন।

জবাবে রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, ভারতে বাংলাদেশের দূত হিসেবে ১৮ মাসের দায়িত্বকালে পারস্পরিক আস্থা, মর্যাদা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখা ও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রচলিত কূটনৈতিক পদ্ধতির পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়। এর মধ্যেই ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ। বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, বিক্ষোভ ও কূটনীতিক তলবের ঘটনাও ঘটে।

পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে স্বাভাবিকতার বার্তা দেখা যায়। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ঢাকায় এসে অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার মধ্যে চলতি বছরের ২০ মার্চ জয়শঙ্করের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ।

বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক মিশনে পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এবার জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি। দিল্লিতে তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন আসাদ আলম সিয়াম, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের সময়ও সাংস্কৃতিক ও জনসম্পৃক্ত কূটনীতিতে সক্রিয় ছিলেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ। দিল্লিতে বাংলাদেশের জামদানি, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়ি এবং জাতীয় মাছ ইলিশকে ঘিরে বিভিন্ন আয়োজন করেন তিনি।

রিয়াজ হামিদুল্লাহ আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়া এই কূটনীতিক এর আগে শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার ও নেদারল্যান্ডসে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts