নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
রাজধানীর ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় এমপি ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত জুনে ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। এরপর মরিয়ম এমপি নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে সংসদ সদস্যদের আবাসিক ভবন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকতেন।
মরিয়ম পরিবারের সদস্যদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। এজাহারে এসব অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন তার বাবা।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়েকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মরদেহ উদ্ধারের সময় মরিয়মের বিছানার ওপর কয়েকটি হাতে লেখা চিরকুট পাওয়া যায় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এসব লেখায় স্বামীকে ঘিরে তার অভিমান, কষ্ট ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা উঠে এসেছে।
একটি চিরকুটে নিজের কষ্ট ও প্রতারিত হওয়ার অনুভূতির কথা লেখা রয়েছে। আরেকটিতে স্বামীকে অন্য নারীর স্বামী হিসেবে উল্লেখ করে সম্পর্কের জটিলতার কথা বলা হয়েছে। তবে চিরকুটগুলোর লেখক মরিয়মই কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয় রয়েছে।
এদিকে মামলার পর গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে শেরেবাংলা নগর থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এজাহারে আনা অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গণ্য করা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts