নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়েছে অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের একটি কার্গো উড়োজাহাজ। পরে কয়েকটি যানবাহনে ধাক্কা দিয়ে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ২টার কিছু আগে প্রাইম এয়ারের ফ্লাইট ৭৫৯৮ দুর্ঘটনায় পড়ে। রানওয়ে থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর উড়োজাহাজটি বিমানবন্দরের কাছে থাকা কয়েকটি যানবাহনে আঘাত করে। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হন।
মায়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউয়ের প্রধান রে জাদাল্লাহ জানান, আহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার পর ধাক্কা লাগা কয়েকটি গাড়িতে অন্তত দুজন আটকা পড়েন। একই সঙ্গে উড়োজাহাজটির পাইলট ও কো-পাইলটও ভেতরে আটকে যান।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এনডিআরএফ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। মায়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউয়ের ৬০টির বেশি ইউনিট ও প্রায় ২০০ কর্মী উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। উড়োজাহাজটি থেকে জ্বালানি বের হয়ে আসায় আগুন ও অন্যান্য ঝুঁকি মোকাবিলায় উদ্ধারকর্মীদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হয়।
দুর্ঘটনার পর মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে বিমানবন্দরের চারটি রানওয়ের মধ্যে দুটি আবার চালু করা হয়।
কার্গো বিমানটি পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ান থেকে মায়ামির উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। এটি ৩২ বছর পুরোনো বোয়িং ৭৬৭-৩০০ ফ্রেইটার। অ্যামাজনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানটি তাদের হয়ে টোয়েন্টিওয়ান এয়ার পরিচালনা করছিল।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবার তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় রানওয়ে থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে উড়োজাহাজটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১২৯ মাইল। বিমানটির সামনের অংশ মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং পেছনের লেজের অংশ ওপরে উঠে যায়। দুর্ঘটনার পর বিমানটির একটি অংশে আগুনে পোড়া চিহ্নও দেখা যায়।
এ ঘটনায় নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts