আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য, সংহতি ও পশ্চিম এশিয়ায় গঠনমূলক সহযোগিতা বাড়াতে নেওয়া যেকোনো উদ্যোগে ইরান পূর্ণ সমর্থন দেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আঞ্চলিক দেশগুলোর অভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় পারস্পরিক মতপার্থক্য সরিয়ে একযোগে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) তেহরানে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

পেজেশকিয়ান বলেন, আলোচনার মাধ্যমে এমন কোনো সমঝোতা হলে, যা মুসলিম দেশগুলোর ঐক্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতা শক্তিশালী করবে, ইরান তাতে পূর্ণ সমর্থন জানাবে। দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বহিরাগত চাপ মোকাবিলায় ঐক্যের তাগিদ

ইরানের প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোকে দুর্বল করা এবং মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ধরনের নীতির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। এতে কোনো দেশকে এককভাবে চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হবে না।

অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি এবং জনগণের মধ্যে অসন্তোষ উসকে দেওয়ার প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন পেজেশকিয়ান। তাঁর মতে, গঠনমূলক সংলাপ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং দেশগুলোর নিজস্ব সক্ষমতার কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে পারস্পরিক প্রয়োজন মেটানো সম্ভব।

তিনি বলেন, চাপ ও নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কোনো জাতিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা যত বাড়বে, বাইরের চাপ মোকাবিলার সক্ষমতাও তত শক্তিশালী হবে।

গাজা ও লেবাননে হামলার নিন্দা

বৈঠকে গাজা, লেবানন ও ইরানে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান পেজেশকিয়ান। তাঁর অভিযোগ, এসব হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলি খামেনি, সামরিক কমান্ডার, বিজ্ঞানী ও স্কুলশিক্ষার্থীদের প্রাণহানি ঘটেছে।

এসব কর্মকাণ্ডকে আইনগত, মানবিক ও যুক্তির দিক থেকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগ্রাসন ও নিরাপত্তাহীনতা মোকাবিলায় ইসলামি দেশগুলোর অভিন্ন অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।

পেজেশকিয়ানের ভাষ্য, চাপ ও আগ্রাসনের মাধ্যমে ইরানের পতন ঘটানো যাবে বলে প্রতিপক্ষরা ধারণা করেছিল। কিন্তু এসব পদক্ষেপ দেশটির জাতীয় ঐক্য ও জনগণের সংহতি আরও জোরদার করেছে। আন্তর্জাতিক আইনের নীতি ও বিধি মেনে নিজেদের অধিকার এবং জনগণের বৈধ স্বার্থ রক্ষায় ইরান দৃঢ় থাকবে বলেও জানান তিনি।

শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের অধিকার বজায় রাখবে ইরান

পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে চায় না। তবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার দেশটি বজায় রাখবে।

তিনি সংলাপের মাধ্যমে পারমাণবিক সমস্যার সমাধানে আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইরানের ওপর চাপ ও হুমকি প্রয়োগ কিংবা দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার অজুহাত তৈরির নীতিকে পরস্পরবিরোধী ও অসহযোগিতামূলক বলে মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts