বিল্লাল হুসাইন:
যশোরের ঝিকরগাছায় তালাকের তথ্য গোপন করে প্রবাসী স্বামীর বাসা থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে কনক আক্তার নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
প্রবাসী হাবিবুর রহমানের ভাই সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে ঝিকরগাছা আমলি আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬(২) ধারায় মামলাটি করেন। পাশাপাশি আত্মসাৎ করা মালামাল ও অর্থ উদ্ধারে ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৮ ধারায় সার্চ ওয়ারেন্ট জারির আবেদন জানিয়ে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেকটি মামলা করা হয়েছে। মামলা দুটির নম্বর সিআর ৭৪৩/২৬ ও পি ৮৬৭/২৬।
আদালতে দাখিল করা নালিশি বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রবাসী হাবিবুর রহমানের সঙ্গে কনক আক্তারের বিয়ে হয়। পরে ২০২৪ সালের ৬ মার্চ তালাক দেওয়া হলেও বিষয়টি হাবিবুরের কাছে গোপন রাখা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় কনক দীর্ঘদিন প্রবাসীর বাসায় অবস্থান করেন।
বাদীর অভিযোগ, এ সময় বাসার চাবি, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র, স্বর্ণালংকার, পোশাক, ইলেকট্রনিকস ডিভাইস এবং ভাড়ার টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল ও অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ভ্যানে করে বাসা থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র ও নগদ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২ অক্টোবর সাইদুল ইসলাম কনক আক্তারের বাড়িতে গিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলে তিনি তালাকের বিষয়টি জানান এবং আর ফিরবেন না বলে বলেন। এ সময় আত্মসাৎ করা টাকা ও মালামাল ফেরত চাইলে বাদী ও সাক্ষীদের অপমান-অপদস্থ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রবাসী হাবিবুর রহমান বলেন, “আমি যে প্রতারণার শিকার হয়েছি, এমন ঘটনা যেন আর কারও সঙ্গে না ঘটে। আমি ক্ষতিপূরণসহ বিচার চাই।”
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কনক আক্তার বলেন, এ নিয়ে ঝিকরগাছা থানায় উভয় পক্ষের মধ্যে বসাবসি হয়েছিল। তবে মালামাল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি মামলায় উল্লেখ করা ঘটনাবলিকে মিথ্যা বলে দাবি করেন।
আদালতে দায়ের করা মামলা দুটির বিষয়ে পরবর্তী কোনো আদেশের তথ্য পাওয়া যায়নি।