যশোর অফিস :
যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের শশিমপুর গ্রামের রাজমিস্ত্রি মো. হজরত আলীর ১১ বছরের ছেলে মো. ইয়ামিন। ছোট্ট এই শিশুটির বয়স যখন খেলাধুলা আর পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকার কথা, তখন বিরল রোগের যন্ত্রণায় দিন কাটছে তার। শরীরের একটি অংশ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠা, তীব্র ব্যথা ও জ্বালাপোড়া, জ্বর, খাওয়ায় অরুচিসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে তার জীবন।
পরিবারের ভাষ্য, ইয়ামিনের শরীরে ‘লিম্ফেডিমা’ রোগ শনাক্ত হওয়ার পর তাকে নিয়ে একের পর এক হাসপাতালে ছুটেছেন বাবা হজরত আলী। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যশোরের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র, ঢাকার পিজি হাসপাতাল, ধানমন্ডির ভাসকুলার চিকিৎসাকেন্দ্র এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসা করানো হয়েছে। কিন্তু এখনো স্থায়ীভাবে সুস্থ করার মতো চিকিৎসা তারা পাননি।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবারটি জানায়, ইয়ামিনের রোগটি বিরল ধরনের। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। তবে বিদেশে চিকিৎসার ব্যয় বহন করার মতো সামর্থ্য নেই দিনমজুরি ও রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালানো হজরত আলীর।
ইতোমধ্যে ছেলের চিকিৎসায় প্রায় চার লাখ টাকা খরচ করেছেন তিনি। চিকিৎসার পেছনে সঞ্চয় শেষ হওয়ার পাশাপাশি ধারদেনাও করতে হয়েছে পরিবারটিকে। এখন চিকিৎসার জন্য আরও ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে পরিবারটি আশঙ্কা করছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ইয়ামিন একটু খেলাধুলা বা বেশি হাঁটাচলা করলেই আক্রান্ত অংশটি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ফুলে যায়। তখন তীব্র জ্বালা ও যন্ত্রণা শুরু হয়। কখনো শরীরে খিঁচুনি ওঠে, আবার ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত জ্বরও আসে। খাওয়াদাওয়ার প্রতি অনীহা তৈরি হয়। কখনো কয়েক দিন আক্রান্ত অংশ ফুলে থাকার পর ধীরে ধীরে কিছুটা কমে আসে, আবার নিজে থেকেই বেড়ে যায়। ত্বকে ফোসকাও দেখা দেয়।
অসুস্থতার কারণে ইয়ামিনের স্বাভাবিক জীবনও থমকে গেছে। সে হাফেজি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করলেও নিয়মিত ক্লাস করতে পারছে না। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও শারীরিক দুর্বলতায় পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও স্বাভাবিক চলাফেরাও ব্যাহত হচ্ছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ১১বছর বয়সে তার ওজনও ৬০ কেজি ছাড়িয়ে গেছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, লিম্ফেডিমায় শরীরের টিস্যুতে তরল জমে অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় ত্বকে ফোসকা বা তরল বের হওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে এবং আক্রান্ত স্থানে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসায় রোগ নিয়ন্ত্রণে কমপ্রেশন, ত্বকের যত্ন, নির্দিষ্ট ব্যায়াম ও বিশেষায়িত ম্যাসাজসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়; কিছু ক্ষেত্রে বিশেষায়িত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
ইয়ামিনের বাবা হজরত আলী বলেন, ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে তিনি দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেছেন। নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু এখন তার পক্ষে একা চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।
পরিবারটি জানায়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইয়ামিনের রোগটি সংশ্লিষ্ট সহায়তার শর্তের সঙ্গে না মেলায় অনুদানের আবেদনটি বাতিল হয়ে যায় বলে পরিবারটির দাবি।
এ ছাড়া যশোর জেলা পরিষদে লিখিত আবেদন করেছেন তারা। জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন অনুদানের বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলেও এখনো সেই সহায়তা হাতে পাননি পরিবারটি।
ছেলের চিকিৎসার জন্য যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছেও লিখিতভাবে সহায়তার আবেদন করার চেষ্টা করছেন হজরত আলী। তবে যোগাযোগের সুযোগ না পাওয়ায় আবেদনটি এখনো তার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কাশিমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তির কাছেও আবেদনটি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এ অবস্থায় অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে দিশেহারা হজরত আলী প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান মানুষ ও মানবিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন। তার আকুতি—অর্থের অভাবে যেন ১১ বছরের একটি শিশুর চিকিৎসা থেমে না যায়।
প্রশাসনের প্রতি পরিবারের আকুতি
ইয়ামিনের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-পরামর্শ, বিশেষায়িত চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে যশোর জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে পরিবারটি।
পরিবারের ভাষ্য, সরকারি পর্যায়ে চিকিৎসা সহায়তা বা বিদেশে উন্নত চিকিৎসার কোনো সুযোগ তৈরি হলে ইয়ামিনকে সুস্থ করে তোলার লড়াই চালিয়ে যাওয়া তাদের জন্য অনেক সহজ হবে।
সহযোগিতার আবেদন
কোনো সহৃদয় ব্যক্তি ইয়ামিনের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চাইলে পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিচের ব্যাংক হিসাবে অর্থ সহায়তা পাঠাতে পারেন।
ব্যাংকের নাম: SONALI BANK PLC
শাখা: বারীনগর শাখা, যশোর
শাখা কোড: ২৩০৪৪
হিসাব নম্বর: 2304401000232
হিসাবের ধরন: সঞ্চয়ী হিসাব
এছাড়াও বিকাশ নাম্বার : ০১৭৮৩৮৮২৯২৪