নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামরিক বাহিনীতে স্বয়ংক্রিয় ও রোবটিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে নতুন একটি কমান্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। ‘অটোনমাস ওয়ারফেয়ার কমান্ড’ নামের এ ইউনিটের মূল লক্ষ্য হবে এআই ও ড্রোনভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা তৈরি এবং তা দ্রুত বাহিনীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, নতুন কমান্ডটি একজন চার তারকা জেনারেলের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকোতে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, যুদ্ধের ধরন পরিবর্তনের গতি এখন যুদ্ধ প্রস্তুতির পরিবর্তনের চেয়েও বেশি।

হেগসেথের মতে, কম খরচের কম্পিউটিং, উন্নত এআই এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে তুলনামূলক কম ব্যয়ে অত্যন্ত নির্ভুল হামলা চালানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই ব্যয়বহুল প্রচলিত অস্ত্র ব্যবস্থার পাশাপাশি কম খরচের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে পেন্টাগন।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন সামরিক কমান্ড গঠনের ঘটনা বিরল। এর আগে ২০১৯ সালে মার্কিন স্পেস কমান্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বর্তমানে দেশটির সামরিক বাহিনীতে অঞ্চল ও নির্দিষ্ট দায়িত্বভিত্তিক ১১টি কমব্যাট্যান্ট কমান্ড রয়েছে।

সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে ড্রোনের কার্যকারিতাও যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলগত পরিবর্তনে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ দেখিয়েছে, তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি ও হামলা পরিচালনা করা সম্ভব। এর ফলে প্রচলিত যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য ব্যয়বহুল সামরিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের দ্রুত বিস্তার নিয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। পারমাণবিক অস্ত্রসহ সামরিক ব্যবস্থায় এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা কাঠামো ও পারস্পরিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তারা বলেছেন।

পেন্টাগনের নতুন উদ্যোগে তাই একদিকে কম খরচে আধুনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা রয়েছে, অন্যদিকে এআই ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের প্রশ্নও সামনে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts