নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
বিশ্ব অর্থনীতিতে নানা অনিশ্চয়তা, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির প্রভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কমার মধ্যেই চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
চলতি অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে মোট ৬৩ দশমিক ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন এবং সেবা খাত থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে পণ্য ও সেবা—উভয় খাতেই ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে রপ্তানি খাতে মন্দাভাব থাকলেও নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়ায় সময় কমিয়ে আনা, নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান শিল্প প্লটের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ও নীতিগত অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এখন একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। ফলে নীতির ধারাবাহিকতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়বে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এদিকে সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রপ্তানি আয়ে ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা চলছে। চলতি বছর অন্তত পাঁচটি দেশের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের লক্ষ্য রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, সেটিও অনেকটা কেটে গেছে। বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সব মিলিয়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানি ও মূল্যস্ফীতির চাপসহ নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও চলতি অর্থবছরে ১৫ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলে আশা করছে সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts