প্রযুক্তি ডেক্স:
কোনো গ্রহকে নয়, ব্রাউন ডোয়ার্ফকে প্রদক্ষিণ করছে বস্তুটি
মহাকাশে এমন এক অদ্ভুত মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা, যা গ্রহ ও উপগ্রহের প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি সৌরজগতের বাইরে শনাক্ত হওয়া প্রথম উপগ্রহ বা ‘এক্সোস্যাটেলাইট’ হতে পারে।
‘সিডি-৩৫ ২৭২২’ নামের একটি তারামণ্ডলে এই রহস্যময় বস্তুর সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে আমাদের সৌরজগতের চাঁদের মতো এটি সরাসরি কোনো গ্রহকে প্রদক্ষিণ করছে না। বরং বস্তুটি একটি ব্রাউন ডোয়ার্ফকে ঘিরে ঘুরছে, আর সেই ব্রাউন ডোয়ার্ফ আবার একটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে।
ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরির ভেরি লার্জ টেলিস্কোপের মাধ্যমে বস্তুটির অস্তিত্ব শনাক্ত করেন গবেষকরা। আপাতত এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘এক্সোস্যাটেলাইট’।
গবেষকদের মতে, বস্তুটির ভর একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রহের কাছাকাছি। কিন্তু এটি সরাসরি কোনো নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে না। এ কারণে এটিকে গ্রহ, উপগ্রহ নাকি অন্য কোনো শ্রেণির মহাজাগতিক বস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
গবেষকরা মূল ব্রাউন ডোয়ার্ফটির সূক্ষ্ম গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে নতুন বস্তুটির উপস্থিতির ইঙ্গিত পান। তাদের ধারণা, প্রদক্ষিণরত বস্তুটির মহাকর্ষীয় আকর্ষণের কারণেই ব্রাউন ডোয়ার্ফের গতিতে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই সৌরজগতের বাইরে অন্য নক্ষত্রব্যবস্থায় উপগ্রহের সন্ধান করে আসছেন। এখন পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি এক্সোপ্ল্যানেটের অস্তিত্ব নিশ্চিত হলেও কোনো এক্সোপ্ল্যানেটের উপগ্রহের অস্তিত্ব শতভাগ নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।
নতুন এই আবিষ্কার তাই মহাকাশ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। অন্য নক্ষত্রব্যবস্থায় উপগ্রহের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা গেলে এসব বস্তুর সৃষ্টি, গঠন ও বিস্তার সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।
গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী টেলিস্কোপের সাহায্যে মহাবিশ্বের এমন আরও অজানা মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান মিলবে।