নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

দেশে হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’তে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় এক কোটিতে পৌঁছেছে। রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ও টিকাদানের ক্ষেত্রে নানা ঘাটতির কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণে শিশুদের জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ‘বার্থ ডোজ’ টিকা চালুর ওপর জোর দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ নীরবে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বে প্রতিবছর এ রোগে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব মৃত্যুর বড় অংশ লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের কারণে ঘটে।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, হেপাটাইটিস ‘সি’ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের একটি। হেপাটাইটিস ‘বি’জনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ উচ্চঝুঁকির দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে।

ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জানান, দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’তে আক্রান্ত। হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘ই’ নিয়ে দেশে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস ‘বি’ সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে সন্তান অথবা শিশুকালে সংক্রমিত হলে বড় একটি অংশ দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হতে পারে।

হেপাটাইটিস ‘বি’ প্রতিরোধে কার্যকর টিকা থাকলেও হেপাটাইটিস ‘সি’ প্রতিরোধে এখনো কোনো টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। তবে হেপাটাইটিস ‘সি’ পুরোপুরি নিরাময়ের জন্য কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে।

জনস্বাস্থ্যবিদ তাজুল ইসলাম এ. বারী বলেন, হেপাটাইটিস প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোগ শনাক্ত করা এবং টিকা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে শিশুদের জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হেপাটাইটিস ‘বি’র বার্থ ডোজ দিতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনো বার্থ ডোজ চালু হয়নি। জন্মের পর নির্ধারিত সময়ে এই টিকা দেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা সম্পন্ন করা গেলে হেপাটাইটিস ‘বি’ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

তাজুল ইসলাম এ. বারীর মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে অন্তত ৯০ শতাংশ শিশুকে বার্থ ডোজের আওতায় আনতে হবে। এজন্য সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

অন্যদিকে হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘ই’ প্রতিরোধে নিরাপদ পানি, খাবার, স্বাস্থ্যবিধি ও উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি আহমেদ জামশিদ মোহাম্মদ বলেন, অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রোগ দেরিতে শনাক্ত হওয়া এবং সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ না পাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

হেপাটাইটিস মোকাবেলায় রোগ শনাক্তকরণ, টিকাদান ও চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts