নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
পিলখানা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দেশে সংঘটিত কথিত গণহত্যা, গুম ও হত্যাকাণ্ডে ‘ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ভার’ তদন্ত করে সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে পৃথক অভিযোগ দুটি দাখিল করে বাংলাদেশ আজাদ পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার ফোরাম। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্ত করে সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা এবং গ্রেপ্তারের আবেদন জানানো হয়।
বাংলাদেশ আজাদ পার্টির প্রধান সংগঠক বোরহান মাহমুদ এবং রাষ্ট্র সংস্কার ফোরামের সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস পৃথকভাবে অভিযোগগুলো দাখিল করেন।
অভিযোগে বলা হয়, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, আয়নাঘর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন। এসব ঘটনায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের ভূমিকা ও দায় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর তা গ্রহণ করে রেজিস্ট্রারভুক্ত করা হয়। এরপর তদন্তের জন্য তদন্ত সংস্থায় পাঠানো হতে পারে। তদন্ত সংস্থা প্রয়োজন মনে করলে অভিযোগ রেজিস্ট্রারভুক্ত করে তদন্ত শুরু করবে।
তিনি বলেন, শুধু অভিযোগ দাখিল হলেই কাউকে অভিযুক্ত বা আসামি বলা যায় না। তদন্ত শুরু হওয়ার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশ আজাদ পার্টির প্রধান সংগঠক বোরহান মাহমুদ অভিযোগ করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও আয়নাঘরের মতো ঘটনাগুলোর সময় সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে ছিলেন। এসব ঘটনায় তাদের ভূমিকা ও দায় তদন্তের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে রাষ্ট্র সংস্কার ফোরামের সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্তের জন্য তারা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ও হত্যাকাণ্ড বন্ধে তৎকালীন সরকারকে কার্যকর কোনো নির্দেশ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এসব ঘটনায় সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করে বিচারের দাবি জানান তিনি।
তবে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগগুলো তদন্ত সংস্থায় পাঠাবে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts