নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ফরিদপুরে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর এক প্রসূতির পেটে গজ পাওয়ার ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। পরে ওই নারী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
গত ২৯ জুন প্রসববেদনা নিয়ে ফরিদপুরের সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন ৩২ বছর বয়সী কনিকা রানী মণ্ডল। ওইদিন সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পরদিন থেকেই কনিকার পেট ফুলে যায়। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় ইবনে সিনা মেডিকেলে নেওয়া হয়।
গত ৭ জুলাই সেখানে অস্ত্রোপচার করে তার পেটের ভেতর গজ পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পেটে গজ থাকার কারণে তার শরীরে গুরুতর সংক্রমণ তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘ চিকিৎসার পর গত ১৯ আগস্ট কনিকার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ২৭ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কনিকার পেটে গজ থাকার পাশাপাশি চিকিৎসকদের কিছু গাফিলতিও পাওয়া গেছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন জানান, তদন্ত প্রতিবেদন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, অস্ত্রোপচারের সময় ব্যবহৃত গজ-মপের সংখ্যা নিয়ম মেনে হিসাব রাখার কথা। অস্ত্রোপচার শেষে ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত সরঞ্জামের হিসাব মিলিয়ে দেখা হলে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
তাদের মতে, অপারেশনের পর দীর্ঘদিন পেটে ব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া বা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। দেরি হলে পেটে সংক্রমণসহ গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে।