নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের পাশাপাশি মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। বন উজাড়, বন্যপ্রাণী শিকার, বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা, প্লাস্টিক দূষণ, শিল্পকারখানার বর্জ্য এবং অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনের আশপাশে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব শিল্পের বর্জ্য নদী ও খালের পানিতে মিশে বনের ভেতরে প্রবেশ করছে। এতে পানি ও মাটির দূষণ বাড়ার পাশাপাশি উদ্ভিদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সুন্দরবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে পর্যটনকেন্দ্রিক দূষণও। বনের আশপাশে বেশ কিছু কটেজ ও রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এসব স্থাপনায় জেনারেটরের শব্দ, অতিরিক্ত আলো ও উচ্চ শব্দে গান পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পর্যটকদের বহনকারী নৌযান থেকেও তেল, বর্জ্য ও প্লাস্টিক পানিতে পড়ছে।
এদিকে সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার অভিযোগ রয়েছে। এতে মাছের পাশাপাশি অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে। একই সঙ্গে হরিণ, কুমির, সাপ, তক্ষক ও কচ্ছপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী শিকারের ঘটনাও ঘটছে। বাঘ শিকার ও বন্যপ্রাণীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলও পরিবেশের জন্য আরেকটি বড় ঝুঁকি। জাহাজের ইঞ্জিনের শব্দ, হাইড্রোলিক হর্ন, তেল ও বর্জ্য বনের পানি ও মাটিকে দূষিত করছে বলে পরিবেশকর্মীরা জানিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে জাহাজডুবির ঘটনাও সুন্দরবনের প্রতিবেশ ব্যবস্থায় ক্ষতির কারণ হয়েছে।
প্লাস্টিক দূষণও সুন্দরবনের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। নৌযান ও বনসংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন উৎস থেকে পলিথিন, পানির বোতল ও খাবারের প্যাকেট নদী-খালের মাধ্যমে বনে পৌঁছাচ্ছে। গবেষণায় সুন্দরবনের পানি ও মাটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।
পরিবেশবিদদের মতে, সুন্দরবন রক্ষায় শুধু দিবস পালন বা সচেতনতা কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। শিল্পকারখানার বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ রিসোর্ট উচ্ছেদ, প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ, বন্যপ্রাণী শিকার দমন এবং নৌযান চলাচলে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
তবে বন বিভাগ বলছে, সুন্দরবন রক্ষায় নিয়মিত টহল ও অভিযান চলছে। বন্যপ্রাণী ও বনজ সম্পদ পাচার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে সুন্দরবনের সুরক্ষা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।