আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

স্পেনের মধ্যাঞ্চলীয় টলেডো প্রদেশে দুটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে ব্যাপক প্রাণহানি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। স্পেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এক প্রতিবেদনে ৬৫ জন নিহত হওয়ার কথা বলা হলেও আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে অন্য অংশে ৩৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে উরদা ও লস ইয়েবেনেস এলাকার মধ্যবর্তী রেলপথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর অন্তত দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইনের পাশের ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়।

আঞ্চলিক সম্প্রচারমাধ্যম কাস্তিয়া-লা মাঞ্চার প্রকাশিত ফুটেজে দুর্ঘটনাস্থলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে। লাইনচ্যুত একটি ট্রেনের বগি রেলপথের উঁচু অংশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। আশপাশে ছড়িয়ে ছিল বাঁকানো ধাতব অংশ, ভাঙা প্যানেল ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ।

স্পেনের রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা এডিআইএফ জানায়, রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেনফে এবং বেসরকারি উচ্চগতির রেল অপারেটর ইরিওর দুটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ট্রেন দুটি মাদ্রিদ থেকে সেভিয়ার দিকে যাচ্ছিল। একই লাইনে চলার সময় রেনফের ট্রেনটি ইরিওর ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ইরিওর ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পাশে ছিটকে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্ন রাখা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলের মধ্যে উচ্চগতির রেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। দমকলকর্মীদের পাশাপাশি তিনটি হেলিকপ্টার ও বিশেষায়িত মোবাইল চিকিৎসা ইউনিট উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, পরিবহনমন্ত্রী ও কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। জরুরি সেবাকর্মীরা বিভিন্ন প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্পেনের আদামুজ এলাকায় দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দেশটিতে আবারও বড় ধরনের প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা ঘটায় রেল নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts