আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানলের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে ‘ফায়ার ক্লাউড’ বা পাইরোকিউমুলোনিম্বাস (Pyrocumulonimbus) নামে পরিচিত বিশেষ ধরনের বজ্রমেঘ। বিজ্ঞানীদের মতে, দাবানলের প্রচণ্ড তাপে এই মেঘ সৃষ্টি হয় এবং এটি আবার আগুনকে আরও দ্রুত ছড়িয়ে দিয়ে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে।
ফ্রান্স ও স্পেনে চলমান দাবানলে ইতোমধ্যে কয়েক লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ এলাকায় শত শত বর্গকিলোমিটার বনভূমি পুড়ে গেছে। স্পেনেও বিস্তীর্ণ এলাকা আগুনে ধ্বংস হয়েছে। এ অবস্থায় অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ‘ফায়ার ক্লাউড’।
বিজ্ঞানীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দাবানলের তাপে উত্তপ্ত বাতাস, ধোঁয়া ও জলীয় বাষ্প দ্রুত উপরে উঠে প্রথমে পাইরোকিউমুলাস মেঘ তৈরি করে। অনুকূল পরিবেশে সেটি আরও বড় হয়ে বজ্রমেঘে রূপ নেয়, যাকে বলা হয় ফায়ার ক্লাউড। এই মেঘ ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উচ্চতায় উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফায়ার ক্লাউডের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এটি প্রবল বাতাস ও বজ্রপাত সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে আগুনের দিক মুহূর্তেই বদলে যায়, দূরের এলাকাতেও নতুন করে দাবানল শুরু হতে পারে। জ্বলন্ত অঙ্গার ও ছাই বাতাসে ভেসে বহু দূরে গিয়ে নতুন আগুনের সূত্রপাত ঘটায়।
গবেষকদের মতে, এটি একটি ‘ফিডব্যাক লুপ’-এর মতো কাজ করে। দাবানল যত বড় হয়, ফায়ার ক্লাউডও তত শক্তিশালী হয়। আবার শক্তিশালী ফায়ার ক্লাউড আগুনকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অতীতেও এ ধরনের ফায়ার ক্লাউডের ঘটনা দেখা গেলেও ইউরোপে এটি তুলনামূলক বিরল। তবে চলমান দাবানলে ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের মেঘের উপস্থিতি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে দাবানল এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ফায়ার ক্লাউডের মতো বিপজ্জনক ঘটনা আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে ফ্রান্স ও স্পেন ইতোমধ্যে দাবানল মোকাবিলায় নতুন প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করে আগুনের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ এবং আগাম সতর্কতা জোরদার করা হচ্ছে।