বিনোদন ডেস্ক:
প্রয়াত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করে আবেগঘন একটি লেখা প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় নাট্য অভিনেতা ফারুক আহমেদ। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া সেই লেখায় তিনি নুহাশ পল্লীতে গিয়ে প্রিয় মানুষের শূন্যতা অনুভবের বেদনার কথা তুলে ধরেছেন।
ফারুক আহমেদ লিখেছেন, অনেক দিন পর হঠাৎ করেই হুমায়ূন আহমেদের জন্য বুকের ভেতর তীব্র কষ্ট অনুভব করেন তিনি। সেই টানেই নুহাশ পল্লীর উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে পৌঁছে প্রথমেই হুমায়ূন আহমেদের কক্ষে গেলেও সেটি ফাঁকা দেখে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তিনি লেখেন, মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, হুমায়ূন আহমেদ হয়তো ড্রয়িংরুমে বসে নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখছেন। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। হিমু ও মিসির আলির স্রষ্টা আর সেখানে নেই।
এরপর তিনি লীলাবতী দিঘির ঘাটে গিয়ে পুরোনো দিনের স্মৃতিতে হারিয়ে যান। পুকুরপাড়ের সেই কদমগাছের কথা স্মরণ করেন, যেখানে উঠে তিনি অভিনয় করেছিলেন। নিচে দাঁড়িয়ে হুমায়ূন আহমেদ তাকে আরও প্রাণবন্তভাবে সংলাপ বলার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
ফারুক আহমেদ বলেন, সময়ের সঙ্গে কদমগাছটি আরও বড় হয়েছে, ফুলে ফুলে ভরে গেছে। নুহাশ পল্লীর সবকিছু যেন আগের মতোই আছে, শুধু নেই হুমায়ূন আহমেদ। তিনি চলে গেছেন এমন এক জগতে, যেখান থেকে আর কোনো দিন ফিরে আসবেন না।
নুহাশ পল্লী থেকে ফেরার পথে শালবনের মধ্য দিয়ে গাড়ি ছুটে চলার সময় তার বুকের ভেতর তীব্র বেদনা অনুভূত হয়। চোখ ভিজে ওঠে অশ্রুতে। ঠিক তখনই দূরের একটি বাড়ি থেকে ভেসে আসে গান— “নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে, রয়েছো নয়নে নয়নে।” সেই গান যেন আরও গভীর করে তোলে প্রিয় লেখককে হারানোর বেদনা।
ফারুক আহমেদের এই আবেগঘন স্মৃতিচারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। হুমায়ূন আহমেদের অসংখ্য পাঠক-ভক্ত তার লেখায় মন্তব্য করে প্রিয় লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।