নিউজ প্রবাসী ডেক্স ;
মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। পাঁচ দিনের ব্যবধানে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কমেছে প্রায় ২৩ কোটি ঘনফুট এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। এতে ২৫ জুলাই রাতে দেশে সর্বোচ্চ ৯৬২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।
পেট্রোবাংলার গ্যাস উৎপাদন ও বিতরণ প্রতিবেদন এবং পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুলাই জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা এলএনজি থেকে দৈনিক প্রায় ৯৯ কোটি ৩৫ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল। পাঁচ দিন পর ২৫ জুলাই তা কমে দাঁড়ায় ৫০ কোটি ১১ লাখ ঘনফুটে। অর্থাৎ পাঁচ দিনের ব্যবধানে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ কমেছে প্রায় ৪৯ কোটি ২৪ লাখ ঘনফুট বা প্রায় ৫০ শতাংশ।
এ সময়ে দেশীয় গ্যাস উৎপাদনে বড় পরিবর্তন না থাকলেও এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় মোট গ্যাস সরবরাহ দৈনিক ২৬৪ কোটি ঘনফুট থেকে কমে প্রায় ২১৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। অথচ দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট।
গ্যাস সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে। ২০ জুলাই বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক ৯২ কোটি ৬৮ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও ২৫ জুলাই তা কমে দাঁড়ায় ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ঘনফুটে। এতে গ্যাস সরবরাহ কমেছে প্রায় ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ।
একই সময়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ১২ কোটি ৫৫ লাখ ইউনিট থেকে কমে ৯ কোটি ৪০ লাখ ইউনিটের কাছাকাছি নেমে আসে। ফলে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের অংশও কমেছে।
গ্যাসের ঘাটতি সামাল দিতে কয়লা ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। তবে তুলনামূলক ব্যয়বহুল এসব জ্বালানি ব্যবহার করেও বিদ্যুতের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুলাই সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ২৫৩ মেগাওয়াট। পাঁচ দিন পর ২৫ জুলাই রাত ১১টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৬২ মেগাওয়াটে।
ওই রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩২৭ মেগাওয়াটের বেশি। বিপরীতে উৎপাদন ছিল প্রায় ১৫ হাজার ৩২৩ মেগাওয়াট।
গ্যাস সংকটে শুধু বিদ্যুৎ খাতই নয়, বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও সিএনজি স্টেশনেও ভোগান্তি বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্না করতে সমস্যায় পড়ছেন বাসিন্দারা। অনেকেই বাধ্য হয়ে বিদ্যুচ্চালিত চুলা ব্যবহার করছেন, এতে বাড়ছে বিদ্যুৎ বিলের চাপ।
এদিকে তিতাস গ্যাসের আওতাধীন ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ এলাকাতেও সরবরাহ কমেছে। ২০ জুলাই দৈনিক প্রায় ১৪৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস বিতরণ করা হলেও ২৫ জুলাই তা কমে প্রায় ১২১ কোটি ঘনফুটে নেমেছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, মহেশখালীর কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ থাকা এলএনজি টার্মিনাল থেকে আগামী সপ্তাহে আংশিক গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে। প্রথম ধাপে দৈনিক ২৮ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। তবে গ্যাস সংকট, তরল জ্বালানির ঘাটতি, রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি সমস্যার কারণে কিছু কেন্দ্র পুরো সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে না এবং এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts