নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের পর কয়েকদিন পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল থাকলেও আবারও আগের অবস্থায় ফিরেছে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা, অপরিচ্ছন্ন বাথরুম ও দুর্গন্ধে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা। এর পাশাপাশি চিকিৎসক ও জনবল সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, নামমাত্র মূল্যে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগের টিকিট কেটে চিকিৎসা নিতে এলেও প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ হাসপাতাল থেকে পাওয়া যায় না। গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে। রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্সরে ও ইসিজি ছাড়া অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষাও হাসপাতালের বাইরে করতে হয়। আবার এসব সেবার যন্ত্রপাতি অনেক সময় বিকল থাকায় ভোগান্তি আরও বাড়ে।
হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় অনেক রোগীকে বারান্দা ও মেঝেতে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকায় পরিবেশও হয়ে উঠেছে অস্বাস্থ্যকর। বাথরুম ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
শায়েস্তাগঞ্জের লেঞ্জাপাড়া গ্রামের নুরুল হক জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। নার্সদের প্রয়োজনের সময় ডাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সাড়া পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অষ্টগ্রামের আদমপুরের রিনা বেগম জানান, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত সন্তানকে আট দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। তবে সন্তানের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
বানিয়াচংয়ের ইকরাম গ্রামের সালমা বেগম বলেন, মেয়েকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পর বিভিন্ন পরীক্ষা দেওয়া হলেও হাসপাতালের বাইরে গিয়ে সেসব পরীক্ষা করাতে হয়েছে। ভর্তি করার পর হাসপাতাল থেকে কেবল একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে, বাকি প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।
জেলা শহরের ইনাতাবাদ এলাকার এম সজলু মিয়ার ভাষ্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর কয়েকদিন হাসপাতালের পরিবেশ ও সেবার মানে কিছুটা পরিবর্তন এসেছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আবার আগের চিত্র ফিরে এসেছে।
এর আগে ২৯ আগস্ট হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি হাসপাতালের মেডিসিন স্টোর, শিশু ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ, প্যাথলজি ও রান্নাঘর পরিদর্শন করেন। হাসপাতালের নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন