নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। জীবিকার সন্ধানে উত্তরবঙ্গ থেকে আসা এসব শ্রমিকের মৃত্যু যেন এক করুণ বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাসানপুর এলাকায় চালবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের নিচে পড়ে যায়। এতে ট্রাকের ওপর থাকা ১৩ জন শ্রমিকের মধ্যে ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও ৬ জন।
নিহতদের অধিকাংশই দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তারা মৌসুমি কাজের খোঁজে কুমিল্লা-ফেনী অঞ্চলে যাচ্ছিলেন। যাতায়াত খরচ কমানোর জন্য তারা যাত্রীবাহী বাসের পরিবর্তে পণ্যবাহী ট্রাকে উঠেছিলেন।
নিহত সুমনের ভাই সামিউল ইসলাম জানান, প্রতিবছরই কাজের জন্য তার ভাই কুমিল্লায় আসতেন। কিন্তু এবারের যাত্রাই হয়ে দাঁড়ায় শেষ যাত্রা। ভাইয়ের লাশের পাশে বসে তার কান্না হৃদয়বিদারক দৃশ্য তৈরি করে।
আরেক নিহত সোহরাব হোসেনের পরিবারও শোকাহত। দুই মেয়ের ভরণপোষণের জন্য তিনি প্রথমবারের মতো বাড়ি ছেড়ে কাজে বের হয়েছিলেন। পরিবারের নিষেধ অমান্য করে আসা এই যাত্রা তার জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয়দের মতে, অর্থনৈতিক সংকটের কারণেই শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকে ভ্রমণ করেন। নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের নেতারা বলছেন, যদি এসব ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে এ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ট্রাকটির চালকের আসনে ছিলেন হেল্পার, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসন নিহতদের দাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।
এই দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করল—জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts