
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ মেঘনা-ধনাগোদা বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়েছে। বাঁধজুড়ে ছোট-বড় শতাধিক গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় জননিরাপত্তা ও কৃষি সুরক্ষা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
সম্প্রতি ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায়, বৃষ্টির পানির চাপে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ১০ থেকে ১২টি স্থানে বড় ধরনের ছিদ্র এবং ৪০ থেকে ৫০টি স্থানে ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও মাটি ধসে সড়কের নিচে ফাঁপা অংশ সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও সড়কের অংশ ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিটি বৃষ্টির পর নতুন নতুন গর্ত তৈরি হচ্ছে এবং পুরোনো ক্ষতিগুলো আরও বড় আকার ধারণ করছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে আমিরাবাদ, মোহনপুর, ষাটনল, শিকিরচর, এখলাসপুর, জহিরাবাদ ও জনতাবাজার এলাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের পর বিভিন্ন সময়ে বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। অতীতে কয়েকশ কোটি টাকার ফসল, বসতভিটা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই স্মৃতি এখনো তাড়া করে ফেরে এলাকাবাসীকে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নির্মিত ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৪টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা এবং ৩২ হাজার ১১০ একর কৃষিজমি নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেয়ে আসছে।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধটির স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেক স্থানে এলাকাবাসী নিজেরাই বালুর বস্তা, মাটি ও ইট ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ রক্ষার চেষ্টা করছেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চাঁদপুর জেলা শাখার নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শুরু না হলে চলতি বর্ষায় বড় ধরনের ধস কিংবা বাঁধ ভাঙনের ঘটনা ঘটতে পারে। এতে কৃষি, মৎস্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনজীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে চাঁদপুর মেঘনা-ধনাগোদা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে।