নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার এক বছর পূর্ণ হলেও সেই ট্র্যাজেডির ক্ষত এখনো শুকায়নি। সন্তান হারানো পরিবারগুলো আজও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তাদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি, দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা হয়নি।
২০২৫ সালের ২১ জুলাই দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে ৩৬ জন নিহত এবং দেড় শতাধিক আহত হন। নিহতদের অধিকাংশই ছিল শিক্ষার্থী।
নিহত শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদের বাবা রুবেল মিয়া বলেন, সকালে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিলেও দুপুরে তাকে লাশ হিসেবে ফিরে পান। এখনও ছোট ছেলেকে স্কুলে নিয়ে গেলে শত শত শিক্ষার্থীর ভিড়ে তিনি তানভীরকে খুঁজে বেড়ান। দুর্ঘটনার পরও এলাকায় প্রশিক্ষণ বিমান চলাচল অব্যাহত থাকায় নতুন করে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তারা আতঙ্কে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহতাব রহমানের বাবা মিনহাজ রহমান বলেন, এক বছর ধরে ছেলের পড়ার টেবিল, বই-খাতা আগের মতোই সাজানো রয়েছে। পরিবারের কেউই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া এবং ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় না আনা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চার দিন পর মারা যাওয়া শিক্ষার্থী তাসনিম আফরোজ আয়মানের মা আয়েশা আক্তার বলেন, মেয়ের স্মৃতিবিজড়িত বাসায় তারা আর ফিরে যাননি। সরকারের দেওয়া ক্ষতিপূরণও তারা গ্রহণ করেননি। তার দাবি, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে স্কুলটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর অথবা প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া উচিত।
অন্তর্বর্তী সরকার নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও অধিকাংশ পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, অর্থ দিয়ে সন্তানের শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব নয়; তারা চান ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, দায়ীদের জবাবদিহি এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা।
এদিকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরুন নবী জানান, দুর্ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করেছে। তিনি দাবি করেন, প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন আগের স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আহত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই ইতোমধ্যে নিয়মিত ক্লাসে ফিরেছে।
ট্র্যাজেডির এক বছর পরও নিহতদের স্বজনদের একটাই প্রত্যাশা—ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।