২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে নাটকীয় পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ম্যাচ শেষে হাজারো সমর্থকের উপস্থিতিতে শহরের কেন্দ্রস্থল ওবেলিস্ক এলাকাকে ঘিরে শুরু হয় বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, জলকামান এবং রাবার বুলেট ব্যবহার করে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েকজন সমর্থক এবং অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য।
স্থানীয় সময় রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির নিউ ইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনাল নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য থাকায় অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে স্পেনের ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলেই ১–০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় স্পেন। এর মধ্য দিয়ে তারা দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় এবং আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয়বারের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে যায়।
ফাইনাল ম্যাচটি দেখার জন্য বুয়েনস এইরেসের বিভিন্ন সড়ক, বিশেষ করে ঐতিহাসিক ওবেলিস্ক চত্বরে হাজারো ফুটবলপ্রেমী জড়ো হয়েছিলেন। ম্যাচ শেষে অধিকাংশ সমর্থক শান্তিপূর্ণভাবে দলকে সমর্থন জানালেও একটি উচ্ছৃঙ্খল গোষ্ঠী নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে ওবেলিস্কে ওঠার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর তারা পুলিশের দিকে কাচের বোতল, পাথর ও অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপ শুরু করলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে উঠলে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান এবং রাবার বুলেট ব্যবহার করা হয়। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলা সংঘর্ষে সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া কয়েকজন সমর্থকও আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন ব্যক্তি মুখে গুরুতর আঘাত পান এবং এক নারীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়ে জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর অন্তত ১৫ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং মধ্যরাতের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভাঙা কাচ ও বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এদিকে মাঠের খেলাও বিতর্কমুক্ত ছিল না। ম্যাচ শেষে দুই দলের কয়েকজন ফুটবলারের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে ফিফা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয় আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্য বড় ধাক্কা হলেও দেশজুড়ে বহু জায়গায় আবার হাজারো মানুষ জাতীয় দলকে সম্মান জানিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হন। তবে বুয়েনস এইরেসের ওবেলিস্ক এলাকায় ঘটে যাওয়া সহিংসতা বিশ্বকাপ-পরবর্তী উদযাপনের আনন্দকে অনেকটাই ম্লান করে দেয়।