নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
রাজধানীর দিয়াবাড়ীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর এফ-৭বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় উড়োজাহাজে কোনো কারিগরি ত্রুটি পাওয়া যায়নি। সরকার গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইলটের মানবিক ভুল, ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের ঘাটতি, কমান্ডিং কর্মকর্তার পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এবং পরিবেশগত কিছু প্রভাব মিলেই এ দুর্ঘটনার মূল কারণ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী ভবনে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় পাইলটসহ ৩৬ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষার্থী।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের সময় বিমানের ইঞ্জিন, হাইড্রোলিক বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল না। তবে নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ব্যাংক অ্যাঙ্গেল ও অ্যাঙ্গেল অব অ্যাটাক সৃষ্টি হওয়ায় বিমানটি ‘স্টল’ অবস্থায় চলে যায়। পরে পাইলট চেষ্টা করেও সেটি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন।
কমিশনের ভাষ্য, পাইলটের প্রশিক্ষণে ধারাবাহিকতার ঘাটতি, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধীর প্রতিক্রিয়া এবং পর্যাপ্ত সুপারভিশনের অভাব দুর্ঘটনাকে ত্বরান্বিত করেছে। পাশাপাশি বিমানের উইন্ডশিল্ডে পাখি বা অন্য কোনো উড্ডীয়মান বস্তুর আঘাতও একটি সম্ভাব্য পরিবেশগত কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যে ভবনে বিমানটি বিধ্বস্ত হয় সেখানে শত শত শিক্ষার্থী থাকলেও বের হওয়ার জন্য কার্যকরভাবে একটি মাত্র সিঁড়ি ছিল। ভবনটির নির্মাণ অনুমোদন সম্পর্কেও প্রশ্ন তুলেছে তদন্ত কমিশন।
ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কমিশন ৩০ দফা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সংস্কার, সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার বাইরে প্রশিক্ষণ ঘাঁটি স্থাপন এবং নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করা।
তদন্ত কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে পুরো প্রতিবেদন প্রকাশ করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts