নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
মহাস্থানগড়ের সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণসংক্রান্ত মামলায় সরকারের করা লিভ টু আপিলে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নাম বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও পরে দুই প্রতিষ্ঠানই তাদের নাম প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছে। তারা বলেছে, এ আপিল দায়েরের বিষয়ে তারা অবগত ছিল না এবং কোনো অনুমতিও দেয়নি।
সম্প্রতি মহাস্থানগড়ে স্থানীয় মসজিদ ও মাজার এলাকায় নারীদের জন্য বিশ্রামাগার ও অজুখানা নির্মাণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। নির্মাণকাজ বন্ধ হওয়ার পর গত ২ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ২০১২ সালের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করা হয়।
আপিলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাকে আবেদনকারী হিসেবে দেখানো হয়। তবে পরে পৃথক চিঠিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জানায়, তারা এ আপিল করেনি এবং বাদীর তালিকা থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করা হোক।
এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর উইংয়ের কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্রের স্বার্থে জরুরি পরিস্থিতিতে কখনও কখনও দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে নাম প্রত্যাহারের আবেদন মামলার নথিতে সংযুক্ত থাকবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।
অন্যদিকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক জানান, মামলার আইনি কার্যক্রম অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।
রিটকারীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ প্রশ্ন তুলে বলেন, মহাস্থানগড় সংরক্ষণে যেখানে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বও তা বাস্তবায়ন করা, সেখানে ১৪ বছর পর ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মহাস্থানগড় ইউনেসকোর টেন্টেটিভ তালিকাভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। আদালতের নির্দেশনা ও সংরক্ষণ নীতিমালা মেনে উন্নয়নকাজ না হলে এ ঐতিহাসিক স্থানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মামলাটির পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি নিয়ে আপিল বিভাগ সিদ্ধান্ত দেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts