জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
বৃহস্পতিবার শহীদ পরিবারের সদস্য ও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধিদের দেওয়া স্মারকলিপি গ্রহণের পর প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, জুলাই-আগস্টের ঘটনাসংশ্লিষ্ট মামলাগুলো বর্তমানে প্রসিকিউশনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রাথমিকভাবে পাওয়া ৫৯০টি অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে ১০৯টি মামলায় একীভূত করা হয়েছে, যাতে সারা দেশের ঘটনাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, এক বছরের মধ্যে এসব মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং বিচার সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রায় চার হাজার অভিযোগ নিয়েও কাজ চলছে। আলোচিত একরামুল হক হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনও শিগগিরই দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি।
আমিনুল ইসলাম জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর আবু সাঈদ হত্যা, রামপুরার কার্নিশে ঝুলে থাকার ঘটনা এবং হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় হয়েছে। এছাড়া ওবায়দুল কাদের, মাহবুবউল আলম হানিফ, জিয়াউল আহসান ও জুনাইদ আহমেদ পলক সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো বিচারিক কার্যক্রমের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী মাসের মধ্যেই আরও তিন থেকে চারটি মামলার রায় হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্মারকলিপিতে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্রুত তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ডিজিএফআইয়ের জেআইসি, র্যাব-১-এর টিএফআইসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।
প্রধান কৌঁসুলি জানান, আগামী ১ আগস্ট র্যাবের টিএফআই, ৪ আগস্ট ডিজিএফআইয়ের জেআইসি এবং ৬ থেকে ৮ আগস্ট খুলনার সুন্দরবন এলাকার কথিত ‘গুমচর’ পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়া ২ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে গণশুনানি ও গণকবর পরিদর্শন করা হবে। তিনি বলেন, একই অপরাধে যেন কোনো আসামির দ্বৈত বিচার না হয়, সে বিষয়েও তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।