নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
দেশের তিনটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বাইরে অন্য বিভাগের অধ্যাপকদের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় আইনি বৈধতা ও নীতিগত প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আইনে উপাচার্য হিসেবে ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ’ বা ‘বিশেষজ্ঞ’ নিয়োগের কথা উল্লেখ থাকলেও সাম্প্রতিক নিয়োগে সে বিধান মানা হয়নি বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হুসাইন, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম শহিদুল ইসলাম এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক গোলাম রব্বানীকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিন উপাচার্যই বলেছেন, রাষ্ট্রপতি বা আচার্যের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই তাদের নিয়োগ হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন পর্যালোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
এদিকে ইউজিসির সাবেক সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান বলেছেন, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের শিক্ষাবিদের দায়িত্ব পাওয়াই আইনসম্মত ও যৌক্তিক। অন্য বিভাগের অধ্যাপকদের নিয়োগ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও একাডেমিক নেতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সার্চ কমিটি ও নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে পাওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। তবে নিয়োগের বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুসরণ করে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।