জ্বালানি তেল আমদানিতে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে দেশের ব্যয় হয়েছে ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১০৭ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়াম, তেল ও লুব্রিকেন্ট (পিওএল) আমদানিতে মোট ১ হাজার ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা।
এর আগে জ্বালানি তেল আমদানিতে সর্বোচ্চ ব্যয় হয়েছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে। ওই বছর ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দেশে জ্বালানির চাহিদা বাড়ার কারণে আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতাও প্রভাব ফেলেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম আমদানিতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারে। আগের বছরের তুলনায় এ ব্যয় বেড়েছে ৯২ শতাংশ। একই সময়ে পিওএল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৯৪৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০৯ শতাংশ বেশি।
গত অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে দেশে ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৫০ লাখ ৫ হাজার টন।
বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম বলেন, মূলত তেলের দাম ও চাহিদা বাড়ার কারণেই আমদানি ব্যয় বেড়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলে আগামী মাসগুলোতে এ ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অন্তত দেড় মাসের জ্বালানি মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts