নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দিদারুল ইসলাম দিদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় এক পক্ষের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ গজারিয়া গ্রামে গেলে নিহত মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়া পুলিশকে তার বাড়ি শনাক্ত করতে সহায়তা করেন।
পরে ওই ঘটনায় প্রতিশোধ নিতে তাদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাদের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার একটি পাটক্ষেতে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়।
তিন দিন পর ওই পাটক্ষেত থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মহর আলী মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং স্বপন মিয়া সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ ঘটনায় স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম মাদারগঞ্জ মডেল থানায় ২২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।
দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর বিচারিক কার্যক্রম শেষে বৃহস্পতিবার মামলাটির রায় হলো। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বাদী জাহাঙ্গীর আলম দ্রুত সাজা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।