নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঘন ঘন শুনানির তারিখ পড়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন এক আসামি। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষে কথা বলার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন সাবেক বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম।
পরবর্তী শুনানির তারিখ ঘোষণার আগে তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, নিয়মিত তারিখ পড়ায় আইনজীবীর ফি পরিশোধ করা তার জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তার সঞ্চয় বা অন্য কোনো আর্থিক উৎস নেই বলেও জানান তিনি। একপর্যায়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন, বেতনের টাকা আইনজীবীর পেছনে ব্যয় করবেন, নাকি পরিবার চালাবেন।
রেদোয়ানুলের বক্তব্য শুনে ট্রাইব্যুনাল জানায়, দ্রুত মামলার কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্যেই ঘন ঘন তারিখ দেওয়া হচ্ছে। এতে দীর্ঘ সময় আইনজীবীর পেছনে অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজনও কমবে বলে তাকে বোঝানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গাজী মোনাওয়ার হুসাইন প্রয়োজনে রেদোয়ানুলের জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী দেওয়ার প্রস্তাব করেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলাম জানান, মাসে দুটি করে তারিখ হলে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে মামলার কার্যক্রম চালাতে পারবেন।
পরে রাষ্ট্রপক্ষের আরেক আইনজীবী আবদুস সাত্তার প্রস্তাব দেন, মামলাটি যে দিন শুনানিতে থাকবে, সেদিন ট্রাইব্যুনালে অন্য কোনো মামলা না রাখলে কার্যক্রম দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে।
আলোচনা শেষে ট্রাইব্যুনাল আগামী ২ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে। ওই দিন অন্য কোনো মামলা না রাখার জন্য বেঞ্চ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রামপুরায় জুলাই আন্দোলনের সময় ২৮ জন নিহতের ঘটনায় করা এ মামলায় আসামি চারজন। তারা হলেন সাবেক বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, মেজর মো. রাফাত বিন আলম মুন, ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান।
রেদোয়ানুল ইসলাম ও রাফাত বিন আলম গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। অপর দুজন পলাতক।
গত ২৪ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চার আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল।