নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
লন্ডনের লর্ডসে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে ক্রিকেটের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মাঠের বাইরের ঘটনা। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে স্কাই স্পোর্টসে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।
সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার মাইকেল অ্যাথার্টনের নেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে দুই ভাই পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তাদের বাবার সঙ্গে অমানবিক আচরণের গুরুতর অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, কারাগারে ইমরান খানের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটছে এবং তাকে দীর্ঘ সময় একাকী ও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হচ্ছে।
কাসিম খান অভিযোগ করেন, তার বাবাকে দিনের ২৩ ঘণ্টারও বেশি সময় একটি ছোট কক্ষে একা রাখা হচ্ছে। সম্প্রতি স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ইমরান খানের কারাগারের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগজনক কথা শুনেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। বাবার জীবন নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন দুই ভাই।
অন্যদিকে সুলাইমান খান দাবি করেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইমরান খানকে নেওয়া হয়নি। সরকারি একটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, পরিবারের সদস্য ও চিকিৎসকদের সঙ্গেও প্রয়োজনীয়ভাবে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না ইমরান খানকে।
সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তীব্র আপত্তি জানায় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। এমনকি পাকিস্তান দল ম্যাচ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে আপত্তি তোলে এবং বিরতির পর মাঠে নামতে অস্বীকৃতি জানায় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান দল আবার মাঠে ফিরে আসে।
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তার শারীরিক অবস্থা ও কারাগারে চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কয়েকজন সাবেক অধিনায়কও সম্প্রতি মানবিক আচরণ ও যথাযথ চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন।