নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
ঢাকার রূপনগর আবাসিক প্রকল্পে হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত প্রায় ২৫ কাঠা জমি চার দশকেও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়নি। বরং জমির একটি অংশে গড়ে উঠেছে গাড়ির ওয়ার্কশপ ও কার ওয়াশ সেন্টার, অন্য অংশে রয়েছে রিকশার গ্যারেজ। এরই মধ্যে হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ ১৫ কাঠা জমি আবাসিক বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪-৮৫ অর্থবছরে রূপনগর আবাসিক প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। প্রায় ১০১ একর জমিতে আবাসিক ও বিভিন্ন নাগরিক সুবিধার জন্য আলাদা প্লট রাখা হয়। এর মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালের জন্য প্রায় ২৫ কাঠা জমি নির্ধারণ করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে জমিটি তিনটি অংশে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে ১৫ কাঠা জমি ‘রূপনগর জেনারেল হাসপাতাল’ এবং আরও একটি প্লট ‘সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশ’-এর নামে হাসপাতাল নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। আরেকটি অংশ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য সিটি করপোরেশনকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো হাসপাতাল নির্মাণ হয়নি। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক তদন্তেও বিষয়টি উঠে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ ১৫ কাঠা জমিতে বর্তমানে কার ওয়াশ ও গাড়ির ওয়ার্কশপ রয়েছে। অন্য প্লটে করা হয়েছে রিকশার গ্যারেজ।
১৫ কাঠা জমিটির বর্তমান নিয়ন্ত্রণে থাকা এমপি জালাল উদ্দিন হাসপাতাল না করে প্লটটি আবাসিক বা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন। তার যুক্তি, ১৫ কাঠা জমিতে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নির্মাণ সম্ভব নয় এবং আশপাশে একাধিক হাসপাতালও রয়েছে।
তবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম জানিয়েছেন, জমিটি হাসপাতালের উদ্দেশ্যেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কেউ অনুমতি চাইতেই পারেন, কিন্তু প্রচলিত আইন ও বরাদ্দের শর্ত অনুযায়ী বিষয়টি যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত আরেকটি প্রায় ৫ কাঠা জমিতে বর্তমানে ‘রাজধানী মহিলা কলেজ’ রয়েছে। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের দাবি, কলেজটির নামে ওই জমি বরাদ্দ দেওয়ার কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের জমি উদ্ধারের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, বহু বছর ধরে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদন ও তদন্ত হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বলছে, বরাদ্দের শর্ত ভঙ্গ করে জমির ব্যবহার পরিবর্তনের সুযোগ নেই। বিষয়টি আইন ও বিধি অনুযায়ী পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts