বিশ্ব ডেস্ক:
ভয়াবহ বন্যা ও ধসের তাণ্ডবের ১০ দিন পরও নেপালে মিলছে জীবনের সন্ধান। ধ্বংসস্তূপ আর ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে আরও দুইজনকে—একজন চীনা শ্রমিক এবং একজন নেপালি নারী।
শনিবার নেপালের ত্রিশূলি থ্রি-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ থেকে চীনা ওই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে নুয়াকোট এলাকায় ধসে পড়া একটি বাড়ির নিচ থেকে ৬৪ বছর বয়সী নেপালি নারী চান্দিকা শ্রেষ্ঠকেও জীবিত বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা।
এর আগে শুক্রবার একই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল দুই নেপালি শ্রমিককে। তবে সর্বশেষ হিসাবে ওই প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে মোট তিনজনকে জীবিত উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ধসের পর বরফ, কাদা ও পাথরের ভয়াবহ ঢল নেমে আসে। এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৩ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ।
নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক রয়েছেন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নেপালের ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৯০০ শ্রমিকের এখনও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বিভিন্ন সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেপালের সেনাবাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ার দুর্যোগ মোকাবিলা বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। প্রায় ২২৫ মিটার দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গ থেকে চীনা শ্রমিককে উদ্ধারের পর তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং পরে চিকিৎসার জন্য তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধারের পর নেপালি নারী চান্দিকা শ্রেষ্ঠকে চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগের ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও বিভিন্ন এলাকায় এখনও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সুড়ঙ্গ ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন—এমন আশঙ্কায় সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।