নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬-এর প্রস্তাবিত বিধানকে দুর্বল ও বৈষম্যমূলক দাবি করে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। সংসদ কক্ষ ত্যাগের সময় জামায়াত ও জোটভুক্ত কয়েকজন সদস্য মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান।
রোববার রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে বিলটির আলোচনা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। সে সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশন পরিচালনা করছিলেন।
ওয়াকআউটের আগে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত আইনে সাধারণ নাগরিক এবং আইনশৃঙ্খলা বা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে একই ধরনের বিধান রাখা হয়নি। সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগে কমিশন সরাসরি তদন্তের সুযোগ পেলেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন চাইতে হবে।
এই ভিন্নতাকেই আইনের ‘দ্বৈত প্রয়োগ’ হিসেবে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, একই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে আলাদা প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও দেশের নাগরিক এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রেও সমান আইনি ব্যবস্থা থাকা উচিত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নতুন আইন আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও প্রস্তাবিত বিলে মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা যথেষ্ট জোরালো করা হয়নি। তাই এমন একটি আইন পাসের প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিরোধী দল যুক্ত থাকবে না বলে ঘোষণা দেন তিনি।
এরপর বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। বাইরে আসার সময় জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির কয়েকজন সদস্যের মুখে কালো কাপড় বাঁধা দেখা যায়।
গত ২৭ আগস্ট আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত আইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে কমিশনের তদন্ত কর্মকর্তাদের কিছু বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার এবং পূর্বানুমতি ছাড়াই কোনো স্থান পরিদর্শনের সুযোগও রাখা হয়েছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা ও সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে পৃথক পদ্ধতির বিধান রাখা হয়েছে। প্রথমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হবে। তাদের জবাব বা গৃহীত ব্যবস্থা সন্তোষজনক না হলে কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
বিরোধী দলের দাবি, এ প্রক্রিয়ায় অভিযোগ তদন্তে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে এবং নাগরিকের মানবাধিকার সুরক্ষা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে সরকার বলছে, প্রস্তাবিত আইনে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রেও মানবাধিকার কমিশনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইনি কাঠামো নিয়ে চলতি বছর কয়েক দফা পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ বাতিল করে সাময়িকভাবে ২০০৯ সালের আইন ফিরিয়ে আনার পর নতুন করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬-এর খসড়া তৈরি করা হয়। গত ১০ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।