নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
নদীভাঙনে একের পর এক বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বসতভিটা, দোকানপাটসহ মানুষের নানা স্থাপনা। সর্বস্ব হারিয়ে অনেকেই এখন অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। নেত্রকোণার কংসসহ কয়েকটি নদ-নদীর তীরবর্তী এলাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
জেলার সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতী ইউনিয়নের চন্দ্রকোণা গ্রামের বাসিন্দা সুভাষ চন্দ্র সরকার গত কয়েক বছরে নদীভাঙনে হারিয়েছেন ১২ কাঠা ফসলি জমি। এখন তার নিজের নামে এক শতাংশও চাষের জমি নেই।
নদীর তীরে দাঁড়িয়ে নিজের হারানো জমির কথা বলতে গিয়ে সুভাষ বলেন, “খোরাকির লাইগ্যা যে ধান করবাম, এইডারও কোনো বাউ নাই। নদী যারে খায়, সব খাইয়া ফালায়। একবারে নিঃস্ব কইর‌্যা ফালায়।”
শুধু সুভাষ নন, একই গ্রামের দিলদার মিয়া ও আব্দুল মোমেন খানের বসতভিটাও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রায় ৩০ কাঠা ফসলি জমি চলে গেছে নদীর পেটে। কংসের ভাঙনে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা বাজারের কয়েকটি দোকানও বিলীন হয়েছে।
কংস নদীর পাশাপাশি জেলার সোমেশ্বরী, উপদাখালি, আত্রাখালি, বাউলাই, নাইতাই, গণেশ্বরী, মগড়া ও ধনুসহ বিভিন্ন নদ-নদীর ভাঙনেও আতঙ্কে রয়েছেন নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ।
সম্প্রতি করা ‘নেত্রকোণা জেলার প্রধান নদ-নদীর সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় জেলার ৪৫টি ভাঙনপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় নদীতীরের ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সমীক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ এসব এলাকায় মোট ২২ হাজার ৫৭ মিটার বা প্রায় ২২ দশমিক ০৬ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছে। নদীতীর ভাঙনের কারণ হিসেবে কোথাও নদীর তলদেশ ও তীরে স্রোতের ক্ষয় এবং কোথাও ঢেউয়ের আঘাতকে দায়ী করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত স্থানগুলোর মধ্যে খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের পাত্রা হাইস্কুল এলাকায় বাউলাই নদীর বাম তীরে এক হাজার ২৫০ মিটার অংশ সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া কংস নদের বিভিন্ন অংশেও তীর সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচপাইয়ে এক হাজার ১৯৫ মিটার, মুক্তির বাজারে এক হাজার মিটার, সদরের বড়ওয়ারীতে এক হাজার ৬৫ মিটার, হাপানিয়ায় ৮১০ মিটার এবং মদনের কোয়েলাটিতে ৮০০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন শুরু হলে সাময়িকভাবে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করা হলেও তাতে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
চন্দ্রকোণা গ্রামের মোহাম্মদ আলী বলেন, “বালুর জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন রোধে যে চেষ্টা পানি উন্নয়ন বোর্ড করছে, তাতে আমাদের তেমন কোনো কাজে আসছে না। স্থায়ী সমাধান চাই। জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী সমাধান হলে এলাকার মানুষ বাঁচবে।”
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, জরুরি ভিত্তিতে জেলার বিভিন্ন নদীর ২৫টি অংশে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের কাজ চলছে। এ কাজে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন করে কয়েকটি অংশে ভাঙন দেখা দেওয়ায় সেসব স্থানেও জরুরি ভিত্তিতে কাজ করা হচ্ছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় চিহ্নিত ৪৫টি স্থানে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts