নিউজ ডেস্ক:
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি মেসবাড়ি ধসে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী ও নির্মাণশ্রমিক রয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে থাকতে পারেন—এমন আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রোববার দুপুরে ‘হোস্টেল ডেজ’ নামের ছয়তলা ভবনটি হঠাৎ ধসে পড়ে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছাকাছি হওয়ায় ভবনটিতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা শিক্ষার্থীরা থাকতেন। সেখানে প্রায় ৭৫ জন শিক্ষার্থীর থাকার ব্যবস্থা ছিল বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দিল্লি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আহতদের দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস) ও রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ছিল। প্রায় এক বছর আগে ভবনটি খালি করে দেওয়া হলেও পরে সেটিকে বাণিজ্যিক মেসবাড়িতে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত আগস্ট থেকে সেখানে শিক্ষার্থীদের রাখা শুরু হয়। তখনও ভবনের বেজমেন্টে সংস্কার ও দেয়াল ভাঙার কাজ চলছিল।
ভবনটির নির্মাণ অনুমোদন নিয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির মাত্র দুই তলা নির্মাণের অনুমতি ছিল। কিন্তু অনুমোদন ছাড়াই পরবর্তী সময়ে আরও চারটি তলা নির্মাণ করা হয় বলে দিল্লি পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এর মধ্যে টানা বৃষ্টিতে ভবনের বেজমেন্টে পানি জমেছিল। একই সময়ে সেখানে সংস্কারকাজ চলছিল। প্রাথমিকভাবে পানি জমে যাওয়া ও অবৈধ সংস্কারকাজের কারণে ভবনের কাঠামো দুর্বল হয়ে ধসের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় ভবনটির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর নিরাপদ আবাসনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত আবাসন না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি মেস ও হোস্টেলে থাকতে বাধ্য হন। ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজে সহায়তার পাশাপাশি ভবন নির্মাণ ও তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts