নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পর পশ্চিম এশিয়ায় নিজেদের সামরিক ও গোয়েন্দা তৎপরতা নতুন করে সাজানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
মার্কিন সেনা ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শেষে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা, গোয়েন্দা সদস্য এবং সামরিক স্থাপনার সংখ্যা কমিয়ে আনার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক ও গোয়েন্দা অবকাঠামো গড়ে তোলে। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এসব স্থাপনার নিরাপত্তা দুর্বলতার বিষয়টি সামনে এসেছে। এখন পর্যন্ত হামলায় ১৮ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং এক ডজনের বেশি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ারও রয়েছে সেখানে।
যুদ্ধ শেষে যেসব মার্কিন সেনা ওই অঞ্চলে অবস্থান করবেন, তাদের নিরাপত্তা জোরদারে সামরিক স্থাপনাগুলোর কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কিছু ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভূগর্ভস্থ এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ঘাঁটিগুলোর দুর্বলতার বিষয়টি আগে থেকেই জানা ছিল। তবে এতদিন এটিকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার মতো বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।
এদিকে যুদ্ধের সময় প্রত্যাহার করা কিছু সিআইএ কর্মকর্তাকে আবার পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরুতেই পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক কাঠামো পুনর্গঠনের সম্ভাব্য কয়েকটি পরিকল্পনা সামনে আসতে পারে। তবে যুদ্ধ চলাকালে বিমান অভিযান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলো পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া কতটা বাস্তবসম্মত হবে, তা নিয়েও মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ও সিআইএ এ বিষয়ে সিএনএনের প্রশ্নের সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।