নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার পথ আরও এগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এ তালিকায় বড় ক্রেতা হিসেবে ভারত ও চীন রয়েছে।
‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের বিলটি ১৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়েছে। এর আগে আগস্টে মার্কিন সিনেট ৮৬-১১ ভোটে বিলটি অনুমোদন করেছিল। হাউজে পাস হওয়ার পর এখন এটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য হোয়াইট হাউসে যাওয়ার কথা।
আইনটি কার্যকর হলে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা নির্দিষ্ট দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে। এর মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে পাওয়া আয় কমিয়ে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বিলটিতে রাশিয়ার নেতৃত্ব, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর বিদ্যমান কিছু নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতাদের মধ্যে ভারত ও চীন রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ তেলের বাণিজ্য কাঠামো বদলে যায়। ভারত তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি সংগ্রহ এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রয়োজনের কথা বলে রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে রুশ জ্বালানি বিক্রির আয় মস্কোর অর্থনীতিকে সহায়তা করছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থের জোগান দিতে ভূমিকা রাখছে। এ কারণে রাশিয়ার জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন আইন কার্যকর হয়ে ট্রাম্প যদি ভারতের পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এতে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ও মার্কিন বাজারে পণ্যের দামের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিলটির বিরোধিতাকারী ডেমোক্র্যাটদের একাংশের অভিযোগ, এটি প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিস্তৃত ক্ষমতা দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিনিধি গ্রেগরি মিক্স প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে হাউজে শেষ পর্যন্ত বিলটি দুই দলের সদস্যদের সমর্থন পেয়েছে।
তবে বিলটি পাস হওয়া মানেই ভারত বা রাশিয়ার জ্বালানি কেনা অন্য দেশগুলোর ওপর সঙ্গে সঙ্গে ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়ে যাওয়া নয়। আইন কার্যকর হওয়ার পর নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে প্রেসিডেন্ট সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।