নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরু হয়নি বিচার। এ মামলায় পিবিআইয়ের দেওয়া অভিযোগপত্রে ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন কারাগারে, নয়জন জামিনে এবং ১৭ জন পলাতক রয়েছেন।
পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গত ২৩ আগস্ট দিন ধার্য থাকলেও তা আদালতে জমা পড়েনি। পরে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছেন।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জলকে চুরির সন্দেহে ধরে নেওয়া হয় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে। প্রথমে তাঁকে হলের অতিথিকক্ষে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ—এমনটা জানার পর তাঁকে ক্যান্টিনে খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর আবার তাঁকে অতিথিকক্ষে নিয়ে হাত বেঁধে লাঠি, স্টাম্প ও হকিস্টিক দিয়ে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন।
প্রথম তদন্তে ২১ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাতে নারাজি আবেদন করে। পরে আদালতের নির্দেশে পিবিআই পুনরায় তদন্ত করে। তদন্ত শেষে অতিরিক্ত সাতজনসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের মার্চে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার বাদী ও তোফাজ্জলের স্বজনেরা দ্রুত বিচার শুরুর দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে প্রসিকিউশন জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারসংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। মামলাটি বিচার শুরুর পর্যায়ে নিতে অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts