নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে বিদেশি উড়োজাহাজ চলাচল বাড়ায় ‘ওভারফ্লাই ফি’ থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়ছে। নতুন রাডার ও আকাশসীমা ব্যবস্থাপনার আধুনিক প্রযুক্তি চালুর পর এই প্রবৃদ্ধি আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে ওভারফ্লাই ফি থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ২৬৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২১ কোটি ৪১ লাখ টাকায়।
চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে এই আয় আরও বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩৪৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে জানুয়ারি-মে সময়ে আয় বেড়েছে প্রায় ৮২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
মাসভিত্তিক হিসাবেও রাজস্ব বৃদ্ধির চিত্র পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ওভারফ্লাই ফি থেকে আয় হয়েছে ৮০ কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি, যেখানে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ছিল ৫৩ কোটি ৫ লাখ টাকা।
ফেব্রুয়ারিতে ২০২৬ সালে আয় হয়েছে প্রায় ৬৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। মার্চে তা দাঁড়ায় ৬২ কোটি ১৭ লাখ টাকার বেশি। মে মাসে আয় হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ওভারফ্লাই ফি বাবদ মোট রাজস্ব এসেছে ৮০৫ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৫ টাকা। এর মধ্যে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আয় ছিল ৩৮৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। পরের ছয় মাসে আয় বেড়ে হয়েছে প্রায় ৪১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন রাডার ব্যবস্থা চালুর ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমায় নজরদারি আগের তুলনায় বেড়েছে। একই সময়ে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স, ফিটস এয়ার ও রিয়াদ এয়ারসহ কয়েকটি নতুন এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে। এসব কারণও রাজস্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে বলে তাদের বক্তব্য।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, নতুন রাডার ব্যবস্থার কারণে আকাশসীমায় নজরদারি বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। ফলে আগে যেসব উড়োজাহাজের ওভারফ্লাই ফি থেকে আয় করা সম্ভব হতো না, সেখান থেকেও রাজস্ব আসছে।
২০২১ সালের এপ্রিলে সিএনএস-এটিএম ব্যবস্থাসহ রাডার স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রায় চার বছর পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অত্যাধুনিক রাডার স্থাপনের কাজ শেষ হয়। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়ে চলতি বছরের এপ্রিলে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
তবে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, রাডারের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারলে রাজস্ব আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এজন্য বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা আইকাওয়ের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তার ভাষ্য, বর্তমান ব্যবস্থায় আকাশসীমার পুরো অংশে নতুন রাডারের সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও অনুমোদন নিশ্চিত করা গেলে ওভারফ্লাই ফি থেকে আয় আরও বাড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts