নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
কয়েক মাস ধরে তীব্র পেটব্যথা ও দ্রুত ওজন কমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছিলেন ২৬ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি তরুণ। চিকিৎসকেরা প্রথমে তাকে অন্ত্রের যক্ষ্মা রোগী হিসেবে শনাক্ত করে দীর্ঘ সময় যক্ষ্মার চিকিৎসা দিলেও শেষ পর্যন্ত জানা যায়, তিনি বিরল ও মারাত্মক ছত্রাক সংক্রমণে আক্রান্ত ছিলেন। রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু ঘটে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট এবং একটি নতুন কেস স্টাডির তথ্য অনুযায়ী, ওই তরুণের শরীরে ‘হিস্টোপ্লাজমা ক্যাপসুলাটাম’ নামের ছত্রাকের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে যক্ষ্মার উপসর্গের সঙ্গে মিল থাকায় শুরুতে চিকিৎসকেরা ভুল রোগ নির্ণয় করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তরুণটির ওজন প্রায় ১৬ কেজি কমে যায় এবং দুটি কোলনস্কোপির পাশাপাশি প্রায় ৬০ দিন যক্ষ্মার ওষুধ সেবনের পরও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। পরে পরীক্ষায় বিরল ছত্রাক সংক্রমণের বিষয়টি ধরা পড়ে।
চিকিৎসকদের মতে, ‘হিস্টোপ্লাজমা ক্যাপসুলাটাম’ সাধারণত দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তবে বিরল ক্ষেত্রে এটি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
‘ক্লিনিক্যাল কেস রিপোর্টস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, সঠিক রোগ নির্ণয়ের পর অ্যান্টি-ফাঙ্গাল চিকিৎসা শুরু করার আগেই তরুণটির শরীরে সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্ত্রের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যেসব দেশে যক্ষ্মার প্রকোপ বেশি, সেখানে এ ধরনের ছত্রাক সংক্রমণ সহজেই আড়ালে থেকে যেতে পারে। কারণ দুই রোগের উপসর্গ প্রায় একই হওয়ায় ভুল রোগ নির্ণয়ের ঝুঁকি থাকে। তাই জটিল উপসর্গের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের আরও সতর্ক ও বিস্তৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।