নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে মোটর শোভাযাত্রায় ম্যানহাটনের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে নেওয়া হয়। সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানসহ সফরসঙ্গীরা রয়েছেন। বিমানবন্দরে বাংলাদেশের জাতিসংঘ স্থায়ী প্রতিনিধি ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তাকে অভ্যর্থনা জানান।
নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে জাতিসংঘের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎ এবং একাধিক সাইড ইভেন্ট রয়েছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সফরের শুরুতে মঙ্গলবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য প্রাতরাশ সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর সাধারণ অধিবেশনের উদ্বোধনী কার্যক্রমে যোগ দেবেন তিনি।
এদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
বুধবার রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরার কথা রয়েছে। একই দিনে জলবায়ু পরিবর্তন ও ন্যায়সংগত জ্বালানি রূপান্তর নিয়ে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেবেন তিনি।
সফরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয় স্থান পেতে পারে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়া সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের সূচিতেও ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বগত হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের কথা উল্লেখ রয়েছে।
জাতিসংঘের অধিবেশনের পাশাপাশি কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় ও সৌজন্য বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে।
অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী মহলের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।