নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণ ঘিরে নজিরবিহীন প্রতিবাদ দেখা গেছে। তিনি মঞ্চে ওঠার পরই কয়েক ডজন দেশের কূটনীতিক প্রতিবাদ জানিয়ে সারিবদ্ধভাবে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। তবে এতে ভাষণ থামাননি নেতানিয়াহু; বরং গাজা ও ইরানে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
প্রতিনিধিদের ওয়াকআউটের মধ্যেই নেতানিয়াহু সমালোচকদের উদ্দেশে কঠোর বক্তব্য দেন। তিনি গাজায় গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। প্রতিবাদ করে যারা বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তাদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভাষণের আগে জাতিসংঘের একই অধিবেশনে ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের সমালোচনা করে বলেন, এর ফলে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে উৎখাতের আশঙ্কা বাড়ছে এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ায় আব্বাস সশরীরে নিউইয়র্কে উপস্থিত হতে পারেননি। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে গিয়ে জাতিসংঘের অধিবেশনে বক্তব্য দেন।
ভাষণে নেতানিয়াহু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিরও সমালোচনা করেন। হামাসকে সমর্থনের অভিযোগ তুলে এরদোয়ানকে আক্রমণ করেন তিনি। তুর্কি প্রশাসন অবশ্য এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
মামদানির সমালোচনা করে নেতানিয়াহু বলেন, নিউইয়র্কের মেয়র হওয়ার পর শহরে ইহুদিদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এর জবাবে মেয়রের কার্যালয় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গাজা যুদ্ধ নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ তোলে।
এদিকে ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক সহযোগিতা এবং ইরানবিরোধী অভিযানকেও তিনি নিজেদের নিরাপত্তা ও বৃহত্তর বিশ্বের স্বার্থে প্রয়োজনীয় বলে তুলে ধরেন।
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বাইরে নিউইয়র্কের রাজপথেও প্রতিবাদ হয়েছে। ইসরায়েলের গাজা অভিযানবিরোধী বিক্ষোভ থেকে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুসান সারানডন, এমিজয়ী অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডারসহ কয়েকজনকে পুলিশ আটক করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় প্রতিনিধি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিরোধের মাত্রা আরও স্পষ্ট করেছে।