নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে দায়িত্বে রেখে তা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সংবিধান সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে অসংলগ্ন বক্তব্য দিয়েছেন এবং দায়িত্ব পালনে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে প্রশ্ন করা হলে বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরকার, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী বলে তারা মনে করেন। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে তা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম মিরপুরের রাড্ডা সেন্টার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, এসব ঘটনায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। রাজধানীতে ঘটনাগুলো ঘটায় এবং গণমাধ্যমে আসায় এগুলো আলোচনায় এসেছে; তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও খারাপ বলে দাবি করেন তিনি।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় ভুক্তভোগীকেই দায়ী করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তাঁর ভাষ্য, সেখানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও তা ঠেকাতে প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সতর্ক অবস্থানের কথা জানান নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কয়েক দফা পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে বা ‘নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ চেষ্টা হলে এনসিপি তা প্রতিরোধ করবে বলে জানান তিনি।
সংবিধান সংশোধনী কমিটির সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, শুধু সংশোধনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। তিনি মৌলিক সংস্কারের দাবি জানান এবং দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের আহ্বান জানান।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের বাদ দেওয়ার বিষয়েও কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর দাবি, প্রায় আড়াই হাজার চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যাদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সন্ত্রাসী সংগঠন বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ নেই।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদেরও এ প্রক্রিয়ায় বাদ দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। অন্যায়ভাবে কোনো যোগ্য চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়া হলে এনসিপি তাঁদের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজন হলে আন্দোলনে নামবে বলে জানান নাহিদ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণ নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। নাহিদের দাবি, ভাষণে বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা ও দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের আগে এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।