নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নে বড় ধরনের পরিবর্তন ধরা পড়েছে। পুনর্মূল্যায়নের পর ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। একই সঙ্গে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ ঘটনায় খাতা মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার সচিবালয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এবার ফল পুনর্মূল্যায়নের জন্য বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুনর্মূল্যায়নের পর ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এবং ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫৮৫ জন ফেল থেকে পাস করেছে। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যেসব পরীক্ষকের দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো যাচাই করতে কমিটি করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেটিও পরবর্তীতে জানানো হবে।
তিনি বলেন, এত বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা খাতা মূল্যায়নের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ ক্ষেত্রে অতীতে স্বজনপ্রীতি বা ফল পরিবর্তনের মতো কোনো অনিয়ম ছিল কি না, তা নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, এবারই প্রথম নয়, খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে। আগে পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে মূলত নম্বর যোগের বিষয়টি দেখা হতো। এবার পুরো খাতা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গত বছরের তুলনায় ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ পাস করেছে। চলতি বছর পাসের হার গত বছরের ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশের তুলনায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।
ভুল ফলাফলের কারণে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও আত্মহননের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ কারণেই পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, কোনো শিক্ষার্থী ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট হলে খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পাবে।
প্রাথমিক শিক্ষকের বদলি অনলাইনে
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি বন্ধ রাখার ঘোষণার পরও ২৩ সেপ্টেম্বর ৪৬ জনের বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রক্রিয়াধীন বদলির ফাইল ও আদেশ হঠাৎ বন্ধ করা সম্ভব নয়। চলমান নিয়োগ ও পদায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব বিষয় নিষ্পত্তি করতে হচ্ছে।
তবে শিক্ষক বদলিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠেকাতে ভবিষ্যতে অনলাইন বদলি ব্যবস্থা চালুর কথা জানান তিনি।