নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
উপাচার্য পদে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে টানা সপ্তম দিনের মতো অচল রয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। বন্ধ রয়েছে ক্লাস-পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম। একই দাবিতে শিক্ষক সমিতিও দ্বিতীয় দিনের মতো সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছে।
সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ রেখে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সকাল ৯টা থেকে তারা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। একই সঙ্গে তারা দ্রুত অচলাবস্থার অবসান করে একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরতে চান বলেও জানিয়েছেন।
এক শিক্ষার্থী বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং ক্যাম্পাস ত্যাগ করবেন না। আরেক শিক্ষার্থী জানান, সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে সপ্তম দিনের মতো শাটডাউন, বিক্ষোভ ও গণঅবস্থান চলছে।
এক ছাত্রী বলেন, এক সপ্তাহ ধরে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছেন। দ্রুত ক্লাসে ফিরতে চান তারা। এ জন্য তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল করারও কথা রয়েছে।
যেভাবে শুরু
গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। এর ৫৬ দিনের মাথায়, ২১ সেপ্টেম্বর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য করা হয়।
উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় শাটডাউন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি। এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে নতুন উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তিনি দ্রুত ক্যাম্পাসে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতির সমাধানের কথা জানিয়েছিলেন।
তবে শিক্ষার্থীরা তাকে প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। শিক্ষক সমিতিও অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে কর্মবিরতিতে যায়। এর আগে শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শন, প্রতিবাদী গ্রাফিতি এবং ‘৫৬?’ লেখা কার্ড নিয়ে প্রতীকী প্রশ্নযাত্রার মতো কর্মসূচি পালন করেছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যাপক সায়েমকে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কেন সরিয়ে দেওয়া হলো, নিয়োগ পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপনে তার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা ও সমাধান দাবি করছেন তারা।
এদিকে শিক্ষক সমিতির পাশাপাশি চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts