আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টার জবাবে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরাকে ইরান-সমর্থিত বাহিনীর অবস্থানেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে হামলার চেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এটি তাদের বাহিনীর ওপর হামলার জোরালো জবাব।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব প্রথমবারের মতো যৌথভাবে ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এতে ইরাকের আধাসামরিক বাহিনী ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)’-এর অন্তত ২০ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে সংগঠনটির দাবি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার জবাব দেওয়া হবে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এবার পাল্টা আঘাত হানার সময় এসেছে।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডানে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি ও একটি কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারেও আঘাত হানার দাবি করেছে তারা।
ইরাকি প্রেসিডেন্টের দপ্তর পিএমএফের ঘাঁটিতে হামলাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরাক সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিচ্ছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts