নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ওমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সাধারণ ও অর্ধদক্ষ কর্মীদের ভিসা পুরোপুরি চালুর অপেক্ষায় রয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। প্রায় তিন বছর ধরে ভিসা বিধিনিষেধ থাকায় দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা কমেছে। এতে রেস্তোরাঁ, সুপারমার্কেট, সেলুন, কৃষি ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে জনবল সংকট তৈরি হয়েছে।
২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশিদের নতুন কর্মভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে ওমান সরকার। পরে ২০২৪ সালের জুনে চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষক, প্রকৌশলী, হিসাবরক্ষক ও বিনিয়োগকারীসহ ১৩টি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে ভিসা চালু করা হয়। তবে সাধারণ শ্রমিক, বিশেষ করে নির্মাণ, কৃষি ও সেবা খাতে কর্মীদের জন্য নতুন ভিসা এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি।
প্রবাসী ব্যবসায়ীরা বলছেন, কর্মী নিয়োগে দীর্ঘদিনের বাধার কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া যাচ্ছে না। দক্ষ কর্মীর অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন শাখা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করতে পারছে না।
আল বারাকা গ্রুপের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ বলেন, তাদের অধীনে ১১টি হাইপারমার্কেট ও একটি ফোর-স্টার হোটেল রয়েছে। কর্মী সংকটের কারণে পরিকল্পিত নতুন শাখা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশিদের জন্য কর্মভিসা পুনরায় উন্মুক্ত হলে দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসার পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে।
কৃষি উদ্যোক্তা নাজিম উদ্দিনও একই ধরনের সংকটের কথা জানিয়েছেন। তার প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে পাঁচ শতাধিক কর্মী রয়েছেন। তার মতে, কৃষি খাতে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ বাড়লে উৎপাদন বৃদ্ধি ও ব্যবসা সম্প্রসারণ সহজ হবে।
কিং জালান গ্রুপ ওমানের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ভিসা জটিলতা কাটলে ওমানে নতুন কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশি বিনিয়োগের পরিধিও বাড়বে।
বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বর্তমানে নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম গত জুনে এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন, ভিসা পরিস্থিতি নিয়ে ওমান সরকারের উচ্চপর্যায়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশিদের জন্য বর্তমানে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ভিসা চালু রয়েছে। বন্ধ থাকা অন্যান্য ক্যাটাগরিও পুনরায় চালুর বিষয়ে মন্ত্রিপর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশা করছেন, ঢাকা ও মাস্কাটের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হলে সাধারণ শ্রমিকদের জন্যও ওমানের শ্রমবাজার খুলে যাবে। এতে একদিকে ওমানে বাংলাদেশি ব্যবসা ও কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে সাধারণ ও অর্ধদক্ষ শ্রমিকদের ভিসা পুরোপুরি চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো ওমান সরকারের নীতিগত অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts